হামজা বলেছেন, ‘আমাদের জয় পাওয়া দরকার ছিল।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০২৫, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
হামজা বলেছেন, ‘আমাদের জয় পাওয়া দরকার ছিল।’

লেবাননের রেফারি হুসেইন আবো শেষ বাঁশি বাজানোর আগেই ভারতের খেলোয়াড়দের মুখ মলিন হয়ে যায়। তারা জয় প্রত্যাশা করলেও শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়। সবচেয়ে বেশি ভরসা করা হয়েছিল সুনীল ছেত্রীর ওপর, কিন্তু তিনি ম্যাচে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে একটি হেড নিয়েছিলেন, তবে সেটিতে তেমন শক্তি ছিল না।

ছেত্রী পুরো ম্যাচজুড়ে নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন, আর ভারতের সামগ্রিক পারফরম্যান্স হতাশাজনক ছিল। কোচ মানোলো মার্কেজও স্বীকার করেন, ‘ভারত আজ বাজে খেলেছে।’

বাংলাদেশের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। গোলের বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হলেও তারা আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে। ভারত বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলের সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মুখে হাসি ফুটে ওঠে, যেন তারা এক আনন্দঘন রাত কাটিয়েছে।

শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এই ম্যাচটি কখনোই ভুলবেন না রাফিয়া চৌধুরী। বাংলাদেশের হয়ে ছেলে হামজার অভিষেক ম্যাচ দেখতে এসে তিনি বলেন, ‘এটা মাত্র শুরু, সামনে আরও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ দল চমৎকার খেলেছে, আমরা দারুণ খুশি।’

হামজার স্ত্রী অলিভিয়া চৌধুরীও দারুণ উচ্ছ্বসিত। তাঁর মতে, এই ড্র বাংলাদেশের জন্য প্রায় জয়ের সমান। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত। হামজা ভালো খেলেছে, বাংলাদেশ দলও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। আমরা এমনই একটি খেলার প্রত্যাশা করছিলাম, আর সেটা বাস্তবায়ন হয়েছে।’

ম্যাচ শেষে হামজা চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে তিনি মনে করেন, জয় পাওয়া বাংলাদেশের প্রাপ্য ছিল। তাঁর কথায়, ‘আমরা কিছু সুযোগ মিস করেছি, যা ফুটবলে স্বাভাবিক ব্যাপার। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও সুযোগ নষ্ট হয়। তবে আজকের দিনটি আমাদের জন্য একটু হতাশার, কারণ আমাদের জয় পাওয়া উচিত ছিল।’

বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের মুহূর্তটি হামজার কাছে বিশেষ কিছু ছিল। এই অনুভূতি তাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পেরে আমি গর্বিত। তবে এই ড্র-ই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়, আমরা আরও এগিয়ে যেতে চাই।’

বাংলাদেশের গ্রুপের অন্য ম্যাচে সিঙ্গাপুর ও হংকং গোলশূন্য ড্র করেছে, ফলে চার দলেরই সমান পয়েন্ট রয়েছে। গ্রুপের সেরা দল ২০২৭ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা পাবে। বাংলাদেশও এখন সেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা ম্যাচ শেষে বলেন, ‘অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পেয়েছি, যা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমার্ধে অনেক সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারিনি, আমাদের জয় পাওয়া উচিত ছিল। তবে আজকের পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে, এশিয়ান কাপে খেলার স্বপ্ন সম্ভব।’

হামজার পারফরম্যান্স নিয়েও তিনি সন্তুষ্ট, ‘সে ভালো খেলেছে এবং তার মান অনুযায়ীই পারফর্ম করেছে। তার সতীর্থরাও তাকে দারুণ সহায়তা করেছে।’

বাংলাদেশ দল ভারতের আক্রমণ ঠেকিয়ে দিয়েছে, যা এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় অর্জন। যদিও গোলের সুযোগ হাতছাড়া করার আক্ষেপ রয়েছে, তবুও দলের মধ্যে জয়ের অনুভূতি কাজ করছে। প্রথমার্ধেই ভারতকে ছিটকে দেওয়া সম্ভব ছিল।

ভারতীয় সাংবাদিকরাও বাংলাদেশ দলের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, অ্যাওয়ে ম্যাচে এমন সাহসী ফুটবল খেলা একটি দলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।

১০ জুন ঢাকায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ। শিলং থেকে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ দল, নতুন স্বপ্ন নিয়ে।