মৃত্যুর গুজব, সংকট কাটিয়ে স্থিতিশীল অবস্থায় তামিম ইকবাল

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানের কাছে প্রথমে যে খবর পৌঁছায়, তা ছিল মর্মান্তিক—তামিম ইকবাল আর বেঁচে নেই। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যান তিনি। তবে ঘণ্টা দেড়েক পরই আসে স্বস্তির সংবাদ, তামিম জীবিত আছেন এবং চিকিৎসা চলছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে ভাতিজার সংকটাপন্ন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন আকরাম খান। তিনি জানান, এখন তামিম স্থিতিশীল অবস্থায় থাকলেও আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সোমবার (২৪ মার্চ) ডিপিএলের ম্যাচ চলাকালীন বিকেএসপির মাঠে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তামিম। অস্বস্তি বেড়ে গেলে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে সাভারের কেপিজে হাসপাতালে যান। পরে মাঠে ফিরে আসলেও দ্বিতীয় দফায় ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হলে তাকে আবারও হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের আপ্রাণ প্রচেষ্টায় ২২ মিনিট সিপিআর ও তিনটি ডিসি শকের মাধ্যমে তাকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর এনজিওগ্রাম করে ব্লক হয়ে যাওয়া ধমনিতে রিং বসানো হয়।
এ ঘটনায় আকরামের কাছে প্রথমে ভুল তথ্য পৌঁছায়, যা তাকে গভীর শোকে নিমজ্জিত করে। তিনি বলেন, “আমি যখন প্রথম খবর পাই, সেটা ছিল ভয়ঙ্কর। বলা হয়েছিল তামিম আর বেঁচে নেই। কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু ঘণ্টা দেড়েক পর ডাক্তারদের কনফারেন্স কলে জানতে পারি, তাকে রিং পরানোর জন্য নেওয়া হচ্ছে। তখন কিছুটা স্বস্তি পাই, কারণ এর মানে সে বেঁচে আছে।”
ডিপিএলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তামিমের এমন শারীরিক অবস্থা আকরামের জন্য অকল্পনীয় ছিল। তিনি বলেন, “একজন ক্রীড়াবিদ, যে কয়েকদিন আগেও দুটি সেঞ্চুরি করেছে, তার সঙ্গে এমন কিছু হবে—এটা ভাবাই যায় না।” তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষীর দোয়ায় এই কঠিন সময় থেকে ফিরতে পেরেছেন তামিম। আকরাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ডাক্তারের সাথেও কথা হয়েছে। সাধারণত এমন রোগীদের ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। আল্লাহর রহমতে তামিম ফিরে এসেছে। আপনাদের দোয়া ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।”
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) তাকে সাভারের কেপিজে হাসপাতাল থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অবস্থার উন্নতি হলেও পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে দেশের বাইরে নেওয়া হবে। আকরাম বলেন, “আরও দুই-তিন দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর বাসায় নেওয়া হতে পারে। তবে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত বিদেশে নিয়ে যাব, যাতে সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত হতে পারি।”
আপনার মতামত লিখুন