আসিয়ান কী, বাংলাদেশ কেন এতে যোগ দিতে চায়, আর এতে কী লাভ?

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চার দিনের সফরে চীন গেছেন। এর আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অগ্রগতির শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য উল্লেখ করেন এবং আসিয়ান সদস্যপদ পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মুহাম্মদ ইউনূস জানান, ২০২৪ সালের শুরু থেকে মালয়েশিয়া আসিয়ানের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে তিনি বাংলাদেশের আবেদনের প্রতি সমর্থন পেয়েছেন এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
আসিয়ান কী?
আসিয়ান (ASEAN – Association of Southeast Asian Nations) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্থা। ১৯৬৭ সালে ব্যাংককে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়, যার লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সংস্থার সদর দপ্তর ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অবস্থিত।
আসিয়ানের সদস্য রাষ্ট্রগুলো
আসিয়ান প্রথমে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড নিয়ে গঠিত হয়। পরে ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া এতে যুক্ত হয়। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১০। পূর্ব তিমুরও পর্যবেক্ষক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং শিগগিরই পূর্ণ সদস্যপদ পেতে পারে।
আসিয়ানের অর্থনৈতিক প্রভাব
আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপি প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা একক সত্তা হিসেবে বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। সংস্থাটির মোট ভূখণ্ড ৪৪.৬ লাখ বর্গকিলোমিটার, যেখানে প্রায় ৭০ কোটি মানুষ বসবাস করে।
আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য
বাংলাদেশ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে আমদানিনির্ভর বাণিজ্য করে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ১,১৩৫ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করে, কিন্তু রপ্তানি আয় মাত্র ৭৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
আসিয়ান সদস্যপদ পাওয়ার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আসিয়ান সদস্য হতে আগ্রহী। বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও আনুষ্ঠানিক আবেদন এখনো করা হয়নি। মিয়ানমার এ বিষয়ে অসহযোগিতার মনোভাব দেখাচ্ছে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ
আসিয়ানের সদস্য হলে বাংলাদেশ নতুন বাজার পাবে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। এছাড়া, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।
প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস মনে করেন, আসিয়ানের সদস্যপদ পেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন