শেখ হাসিনার বিচার সময়ের দাবি, ভারতের উচিত তাঁকে ফেরত পাঠানো: মির্জা আব্বাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনার বিচার সময়ের দাবি, ভারতের উচিত তাঁকে ফেরত পাঠানো: মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস মনে করেন, থাইল্যান্ডের বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ড. ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এ ধরনের বৈঠকের প্রয়োজন ছিল।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমাদের সরকার এই বৈঠকের জন্য স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে চেষ্টা করেছে। আমি জানি না বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তবে বৈঠকে তিস্তা নদী নিয়ে কথা হয়েছে বলে শুনেছি। তিস্তার পানি আমাদের পেতে হবে, তিস্তা বাঁধের সংস্কারও আমাদেরই করতে হবে।”

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে পূর্বের যেসব অসম চুক্তি কার্যকর হয়নি সেগুলো বাতিল করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ এখন আর কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরত আনা নিয়ে মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, “শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন সময়ের দাবি, জনগণের দাবি, আমাদেরও দাবি। ভারতের উচিত তাঁকে অবিলম্বে ফেরত পাঠানো যাতে তাঁর বিচার সম্ভব হয়। তবে শুধু তাকেই নয়, তাঁর সঙ্গে থাকা দেশবিরোধী সাঙ্গপাঙ্গদেরও ফেরত পাঠানো উচিত। ফ্যাসিস্টের বিচার হওয়া দরকার, এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

সংবাদ সম্মেলনে অনলাইন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ইউটিউবার তাঁর, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “ওরা ভারতকে ভালোবাসে, এদেশে ভারতের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে কাজ করছে। ভারতের কায়েমি স্বার্থবাদীদের জন্য ওরা মাঠে নেমেছে। এই শুকুরের গোষ্ঠী কখনোই বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসতে দেবে না। ওরা ইউটিউবে মিথ্যাচার করে টাকা কামাচ্ছে।”

আবেগপূর্ণ কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি বন্দে আলী মিয়ার কবিতার কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, কুকুরের কাজ কুকুর করেছে, কামড় দিয়েছে পায়ে—তাই বলে কি কুকুরকে কামড় দেওয়া মানুষের শোভা পায়?”

সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে মির্জা আব্বাস বলেন, “বিএনপি সবসময় সংস্কারের পক্ষে, তবে কোনো সংস্কার যদি জনগণের স্বার্থের বাইরে যায়—তাহলে তা মেনে নেওয়া হবে না।”