জমি বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পিতার হাতে কন্যা খুন: কুড়িগ্রামে মর্মান্তিক ঘটনা

কুড়িগ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক পিতা নিজ কন্যাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন। পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম প্রতিবেশী মজিবর গংদের সঙ্গে ৩২ বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধে লিপ্ত ছিলেন। এই বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য তিনি পরিকল্পিতভাবে নিজের ১৫ বছর বয়সী কন্যা জান্নাতি খাতুনকে হত্যা করেন। ভুক্তভোগী জান্নাতি ছিল হলোখানা কাগজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় গত ১০ মে গভীর রাতে। পুলিশ জানায়, রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে রড ও দা দিয়ে কুপিয়ে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ বাড়ির সামনের ভুট্টা খেতে ফেলে রাখা হয় এবং পাশাপাশি একটি খড়ের পালায় আগুন ধরিয়ে ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পরপরই কুড়িগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। নিহতের চাচা মো. খলিল হক এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার তদন্তে দ্রুত অগ্রগতি হয়। জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও ওসি ডিবি মো. বজলার রহমান জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ এবং ডিবি পুলিশের একটি দল মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করে। তারা মূল ঘাতক ভিকটিমের পিতা মো. জাহিদুল ইসলাম (৪৫), মাতা মোছা. মোর্শেদা বেগম (৩৮) ও চাচি মোছা. শাহিনুর বেগম (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করে। পরে জাহিদুল ইসলামের দেখানো মতে বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রড ও দা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার তিনজনই বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি বজলার রহমান। মর্মান্তিক এই ঘটনা এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া ফেলেছে।
আপনার মতামত লিখুন