কক্সবাজারে ২০০ কোটি টাকার সরকারি জমি উদ্ধার—সুগন্ধা পয়েন্টে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ জুন, ২০২৫, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
কক্সবাজারে ২০০ কোটি টাকার সরকারি জমি উদ্ধার—সুগন্ধা পয়েন্টে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় অবৈধভাবে দখল হয়ে থাকা প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের ২ একর ৩০ শতাংশ সরকারি জমি উদ্ধার করেছে প্রশাসন।

বুধবার সন্ধ্যায় টানা তিন ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানে শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন সুলতানা, তদারকির দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী।

অভিযানে পুলিশের পাশাপাশি আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন এবং একটি স্কেভেটরের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হয়।

সহকারী কমিশনার শারমিন সুলতানা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ওবায়দুল হাসান নামে এক ব্যক্তি এই মূল্যবান সরকারি জমি দখল করে শতাধিক দোকান নির্মাণ করেন। ভুয়া খতিয়ান ও কাগজপত্র তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা চলছিল। এমনকি উচ্চ আদালতে একটি রিটও দায়ের করা হয়েছিল। আদেশ পাওয়ার পরই আজকের অভিযান পরিচালিত হয়।”

অভিযানের সময় অভিযুক্ত দখলদারদের কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে জাল কাগজ দেখিয়ে অভিযান থামানোর চেষ্টা করে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

এর আগে, ২০২৪ সালের ১২ জুন, জাল নথি দাখিলের অভিযোগে সাচ্চিদানন্দ সেন গুপ্ত নামে একজনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) জেলা প্রশাসকের কাছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। কউক জানায়, ওই ব্যক্তি ঝিলংজা মৌজার একাধিক সরকারি নথি জাল করে জমিটি আবাসিক বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন।

২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর কউক থেকে দেওয়া এক প্রত্যাখ্যানপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, “এই জমি আবাসিক হোটেল, কটেজ বা বাণিজ্যিক কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয়।”

উল্লেখ্য, গত ৫ মে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এক অভিযানে সরকারি জমি জবরদখলের প্রমাণ পায়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবারের উচ্ছেদ অভিযান বাস্তবায়িত হয়।

কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “সরকারি জমি রক্ষায় এবং জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থেকে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”