চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধে নরম সুরে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল
বহু বছর ধরে চলা বাণিজ্যিক উত্তেজনা এবং প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্বের পর অবশেষে চীনের প্রতি অবস্থানে নমনীয়তা দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময়ে আরোপিত কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞাগুলো ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ওয়াশিংটন। শুরুতে চিপ ডিজাইন সফটওয়্যার ও ইথেন রপ্তানিতে শিথিলতা আনা হয়েছে—যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্র চীনের ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ) সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং ইথেন রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর পরপরই সাইনোপসিস, ক্যাডেন্স ডিজাইন সিস্টেমস এবং সিমেন্স ঘোষণা দেয়, তারা আবার চীনের গ্রাহকদের জন্য সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সরবরাহ শুরু করবে।
উল্লেখ্য, ২০২4 সালের মে ও জুনে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর নতুন করে কিছু কড়াকড়ি আরোপ করেছিল, যার অংশ হিসেবে ইথেন রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালু হয়। এসব নিষেধাজ্ঞা ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের সময় শুরু হওয়া প্রতিযোগিতার ধারাবাহিকতা, যার মূল লক্ষ্য ছিল চীনের বিরল ধাতু ও চুম্বক রপ্তানির ওপর চাপ সৃষ্টি করা। এর ফলে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে ব্যাপক বিঘ্ন দেখা দেয়—বিশেষ করে গাড়ি, বিমান, চিপ এবং সামরিক খাতে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে, যেখানে একদিকে চীন নিয়ন্ত্রিত পণ্যের রপ্তানি আবেদন পুনর্বিবেচনা করবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তার নিষেধাজ্ঞাগুলো শিথিল করবে।
সিমেন্স জানিয়েছে, তাদেরকে জানানো হয়েছে যে চীনা গ্রাহকদের জন্য আর কোনো রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নেই, ফলে তারা বিক্রয় ও সেবা পুনরায় চালু করেছে। এই ঘোষণার পর তাদের শেয়ারের মূল্য বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে ১.৭ শতাংশ বেড়ে যায়। সাইনোপসিস জানিয়েছে, তারা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে চীনা গ্রাহকদের সফটওয়্যার সাপোর্ট চালু করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু বাণিজ্যিক সম্পর্কের পুনর্গঠন নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও শিল্প খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইথেন, যা প্লাস্টিক ও কৃত্রিম পণ্যের জন্য অপরিহার্য, এবং ইডিএ সফটওয়্যার, যা আধুনিক চিপ ডিজাইনের ভিত্তি, এই দুই খাতেই চীন নির্ভরশীল। চীনের চিপ ডিজাইন বাজারে সাইনোপসিস, ক্যাডেন্স ও সিমেন্স মিলে প্রায় ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যা দেশটির প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সিদ্ধান্তে বিশ্লেষকরা আশা করছেন, বাণিজ্য যুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার অবসান ঘটতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতি কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। তবে অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল শুরু, এবং চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য এখনো বহু পথ পাড়ি দিতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন